হাঁটার উপকারিতা কী কী? ১২টি প্রমাণিত উপকারিতা
স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো হাঁটা। এতে কোনো খরচ নেই, প্রায় যেকোনো জায়গায় হাঁটা যায়, বিশেষ কোনো সরঞ্জামও লাগে না। আর দৌড়ানো বা অন্য অনেক খেলার তুলনায় শরীরের ওপর চাপও কম পড়ে। উপকারও অনেক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, যারা যথেষ্ট শারীরিকভাবে সক্রিয় নন, তাদের মৃত্যুঝুঁকি পর্যাপ্ত সক্রিয় মানুষের তুলনায় ২০–৩০% বেশি।১ শরীর ও মনের জন্য হাঁটার প্রধান প্রমাণিত উপকারিতাগুলো এবং সেগুলো আরও বেশি করে পাওয়ার উপায় এখানে তুলে ধরা হলো।
Table of Contents
শরীরের জন্য হাঁটার উপকারিতা
1. ১. সুস্থ হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালি
নিয়মিত হাঁটার সঙ্গে হৃদ্রোগ ও রক্তনালির রোগের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে। এগুলো বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি দেখা দেওয়া স্বাস্থ্যসমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম।২ হাঁটা রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তসঞ্চালন ও হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
2. ২. বিভিন্ন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে
একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, অবসর সময়ে হাঁটার মতো শারীরিক কার্যকলাপের সঙ্গে ১৩ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে।৩
3. ৩. টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে
হাঁটার সময় তোমার পেশি শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত হাঁটা পেটের মেদ কমাতেও সাহায্য করে, যার সঙ্গে ইনসুলিন প্রতিরোধের সম্পর্ক রয়েছে।
4. ৪. সর্দি-কাশি কম হয়
১,০০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে পাঁচ দিন বা তার বেশি দিনে অন্তত ২০ মিনিট জোরে হাঁটার মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম করতেন, তাদের সর্দির উপসর্গ থাকা দিনের সংখ্যা সপ্তাহে এক দিন বা তার কম ব্যায়াম করা ব্যক্তিদের তুলনায় ৪৩% কম ছিল। আর তাদের উপসর্গও ছিল হালকা।৪
5. ৫. স্বাস্থ্যকর ওজন
প্রতিদিন হাঁটলে ক্যালরি খরচ হয় এবং বিপাকক্রিয়া ভালো থাকে। এতে স্বাস্থ্যকর ওজনে পৌঁছানো বা তা বজায় রাখা সহজ হয়। দেখে নাও দিনে ১০,০০০ পা হাঁটলে কী হয়।
6. ৬. মজবুত পেশি, হাড় ও অস্থিসন্ধি
হাঁটলে শরীরের প্রায় প্রতিটি পেশি কাজ করে, বিশেষ করে পা ও শরীরের মধ্যভাগের পেশি। শক্তিশালী পেশি অস্থিসন্ধিকে সহায়তা করে এবং পড়ে যাওয়া ও আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমায়। শরীরের ওপরের অংশেরও ব্যায়াম করতে হাত জোরে দোলাও বা হাঁটার পোল ব্যবহার করো।
7. ৭. দীর্ঘায়ু
অল্প হাঁটাও কাজে আসে। একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে মাত্র ১০–৫৯ মিনিট হাঁটার মতো মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ করতেন, গবেষণা চলাকালে তাদের মৃত্যুঝুঁকি নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের তুলনায় ১৮% কম ছিল।৫
মনের জন্য হাঁটার উপকারিতা
1. ৮. মন ভালো থাকে
শারীরিক কার্যকলাপের ফলে শরীরে এমন রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো করে এবং তোমাকে প্রাণবন্ত রাখে।
2. ৯. উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমে
নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ ভালো থাকার অনুভূতি জাগায়, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গ কমায় এবং মনোযোগ বাড়ায়। পড়ে দেখো ব্যায়াম কীভাবে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
3. ১০. ভালো ঘুম হয়
দিনের বেলা বা সকালে হাঁটলে মানসিক চাপ কমে এবং সহজে ঘুম আসে ও ভালো ঘুম হয়।
4. ১১. সৃজনশীলতা বাড়ে
Stanford-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বসে থাকার তুলনায় হাঁটার সময় মানুষের মাথায় বেশি সৃজনশীল ভাবনা আসে।৬ হাঁটতে হাঁটতে মিটিং করে দেখার জন্য এটি দারুণ একটি কারণ।
5. ১২. আরও চনমনে থাকা যায়
ক্লান্ত লাগছে? একটু হাঁটলেই শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ে। চনমনে হয়ে উঠতে এটি আরেক কাপ কফির চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।
কতটা হাঁটা উচিত?
WHO সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপের পরামর্শ দেয়—যেমন, পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে জোরে হাঁটা। তুমি যদি পদক্ষেপ গুনে থাকো, গবেষণা বলছে, বয়স্কদের ক্ষেত্রে দিনে প্রায় ৬,০০০–৮,০০০ পা এবং কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৮,০০০–১০,০০০ পা পর্যন্ত হাঁটার সঙ্গে উপকার বাড়তে থাকে। একেবারে না হাঁটার চেয়ে অল্প হাঁটাও ভালো। আমাদের শারীরিক সক্রিয়তার মাত্রা নির্ণয়ের ক্যালকুলেটর দিয়ে তোমার সামগ্রিক সক্রিয়তার মাত্রা দেখে নাও।
প্রতিদিন আরও হাঁটার টিপস
- কাছাকাছি কোথাও যেতে গাড়ির বদলে হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে যাও।
- হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলো ও একান্ত মিটিং করো।
- সিঁড়ি ব্যবহার করো।
- খাওয়ার পর একটু হেঁটে নাও।
- হাঁটা উপভোগ করতে পডকাস্ট বা গান শোনো।
- সহকর্মী বা বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটার চ্যালেঞ্জে যোগ দাও।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
1. দিনে ৩০ মিনিট হাঁটা কি যথেষ্ট?
হ্যাঁ—সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন ৩০ মিনিট করে জোরে হাঁটলে WHO-এর সুপারিশ অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপের লক্ষ্য পূরণ হয়।
2. হাঁটা কি দৌড়ানোর মতোই উপকারী?
দৌড়ালে প্রতি মিনিটে বেশি ক্যালরি খরচ হয়, তবে হাঁটলেও একই ধরনের অনেক স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যায় এবং অস্থিসন্ধিতে কম চাপ পড়ে। সেরা ব্যায়াম হলো সেটাই, যা তুমি নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারবে।
3. হাঁটার সেরা সময় কখন?
যে সময়ে তুমি নিয়মিত হাঁটতে পারবে, সেটাই সেরা সময়। সকালে হাঁটলে দিনের আলো পাওয়া যায়, আর সারাদিনের জন্য চনমনে থাকা যায়। খাওয়ার পর হাঁটলে হজম ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য হতে পারে।
আজ থেকেই উপকার পেতে শুরু করো
হেডফোনটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ো—তোমার শরীরই তোমাকে ধন্যবাদ দেবে। তোমার প্রতিষ্ঠানের সবাইকে হাঁটায় যুক্ত করতে চাও? শুরু করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো একটি হাঁটার চ্যালেঞ্জ। একটি ডেমো বুক করো এবং YuMuuv-এর সঙ্গে তোমাদের প্রথম টিম চ্যালেঞ্জ তৈরি করো।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শারীরিক কার্যকলাপ সম্পর্কিত তথ্যপত্র।
- হাঁটা এবং হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা (PubMed Central)।
- Moore ও অন্যান্য (২০১৬)। অবসর সময়ে শারীরিক কার্যকলাপের সঙ্গে ২৬ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক। JAMA Internal Medicine।
- Nieman ও অন্যান্য (২০১১)। শারীরিকভাবে সুস্থ ও সক্রিয় প্রাপ্তবয়স্কদের ঊর্ধ্ব শ্বাসনালির সংক্রমণ কম হয়। British Journal of Sports Medicine।
- BMJ (২০১৯)। অবসর সময়ে অল্প শারীরিক কার্যকলাপও মৃত্যুঝুঁকি কমায়।
- Oppezzo & Schwartz (২০১৪)। ভাবনাগুলোকে এগিয়ে নাও: সৃজনশীল চিন্তায় হাঁটার ইতিবাচক প্রভাব।