কর্মীদের কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বাড়ানো

কর্মীদের কাজ ও ব্যক্তিজীবনে ভারসাম্য আনার ১০টি বাস্তবসম্মত উপায়

কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য মানে কম কাজ করা নয় – বরং কাজ থেকে মন সরিয়ে রাখা, বিশ্রামে সতেজ হওয়া এবং নতুন উদ্যমে ফিরে আসতে পারা। দূর থেকে ও হাইব্রিড পদ্ধতিতে কাজ করার ফলে অফিস আর বাড়ির সীমারেখা ঝাপসা হয়ে গেছে, তাই এই ভারসাম্য রাখা এখন আগের চেয়ে কঠিন। ভালো খবর হলো: নিয়োগকর্তারা এক্ষেত্রে অনেক কিছু করতে পারেন। কর্মীদের কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বাড়ানোর দশটি বাস্তবসম্মত উপায় এবং সুস্থতার চ্যালেঞ্জ কীভাবে সাহায্য করতে পারে, তা এখানে তুলে ধরা হলো।

Table of Contents

কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য কেন জরুরি

Pilt
disconneting with work
  • স্বাস্থ্য। WHO ও ILO-এর যৌথ গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করার কারণে ২০১৬ সালে বিশ্বজুড়ে স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগে ৭,৪৫,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
  • বার্নআউট। কর্মক্ষেত্রের দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ সফলভাবে সামলাতে না পারার ফলে সৃষ্ট পেশাগত অবস্থা হিসেবে WHO বার্নআউটকে স্বীকৃতি দেয়।
  • ক্লান্তি কাটানো। কাজের ক্লান্তি কাটানো নিয়ে গবেষণায় দেখা যায়, অবসর সময়ে কাজ থেকে মানসিকভাবে দূরে থাকতে পারলে পরদিন ক্লান্তি কম থাকে এবং সুস্থতার অনুভূতি বাড়ে।
  • কর্মী ধরে রাখা। যেখানে নিজের উদ্যম ধরে রাখা যায়, মানুষ সেখানেই থাকতে চায়। দেখো সুস্থতার সংস্কৃতি কেন কর্মীদের চাকরি ছেড়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখে।

কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বাড়ানোর ১০টি উপায়

1. ১. নিজে উদাহরণ তৈরি করো

ম্যানেজাররা যদি রাত ১১টায় ইমেইল পাঠান আর কখনো ছুটি না নেন, তাহলে কোনো নীতিমালাই কর্মীদের ভিন্ন কিছু বিশ্বাস করাতে পারবে না। নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের সন্ধ্যার সময় ও ছুটি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং সে কথা খোলাখুলি জানাতে বলো।

2. ২. কাজের বাইরের সময় স্পষ্ট করো

কখন সাড়া দেওয়া প্রত্যাশিত আর কখন নয়, তা সবাই মিলে ঠিক করো। দেরিতে লেখা বার্তা নির্ধারিত সময়ে পাঠানোর সুবিধা ব্যবহার করো। এখন বেশ কয়েকটি দেশে "কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অধিকার" নিয়ে নিয়ম রয়েছে – ২০১৭ সালে ফ্রান্স প্রথম দিকেই এটি চালু করে – তবে দলের জন্য এমন রীতি গড়তে আইনের প্রয়োজন নেই।

3. ৩. বিরতির সময় নিশ্চিত করো

ডেস্ক ছেড়ে দুপুরের খাবার খেতে উৎসাহ দাও এবং মিটিংবিহীন সময় নির্ধারণ করে রাখো। ছোট বিরতিও দিনের মধ্যে নতুন করে সতেজ হতে সাহায্য করে।

4. ৪. সম্ভব হলে নমনীয়তা দাও

কাজ শুরুর সময় বা কাজের জায়গায় নমনীয়তা থাকলে স্কুলে আনা-নেওয়া, যত্নের দায়িত্ব ও ব্যায়ামের সঙ্গে কাজ মিলিয়ে নেওয়া সহজ হয়। কোন সময়টায় সবাইকে একসঙ্গে কাজে থাকতে হবে, তা স্পষ্ট করো এবং বাকিটা দলের ওপর ছেড়ে দাও।

Pilt
workplace wellness

5. ৫. কর্মদিবসে চলাফেরার সুযোগ রাখো

হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলা, দাঁড়িয়ে মিটিং করা এবং দুপুরে একটু হাঁটা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার একঘেয়েমি ভাঙে ও মনকে বিশ্রাম দেয়। আমাদের দল কীভাবে হাঁটতে হাঁটতে মিটিং করাকে দৈনন্দিন অভ্যাস করেছে, তা পড়ো। অথবা সবাই মিলে এগিয়ে যেতে একটি পদক্ষেপের চ্যালেঞ্জ শুরু করো।

6. ৬. ঘুমকে গুরুত্ব দাও

ঘুমের মধ্যেই শরীর ও মন সতেজ হয়ে ওঠে। একটি ঘুমের চ্যালেঞ্জ উপদেশের সুর ছাড়াই ঘুমানোর সময় ও স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ে কথা বলতে উৎসাহ দেয়। পড়ো তোমার সুস্থতা কর্মসূচির কেন্দ্রে ঘুম থাকা কেন জরুরি।

7. ৭. মানসিক সুস্থতায় সহায়তা করো

প্রতিদিনের ছোট ছোট চর্চা – শ্বাসের ব্যায়াম, ধ্যান, বাইরে একটু হাঁটা – মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করে। একটি মাইন্ডফুলনেস চ্যালেঞ্জ এগুলোকে সবার অভ্যাসে পরিণত করে। প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা কোথায় পাওয়া যাবে, সেটিও যেন সবাই জানে তা নিশ্চিত করো।

8. ৮. ছুটি নিতে উৎসাহ দাও

ছুটি জমিয়ে রাখা গর্বের বিষয় নয়, বরং একটি সতর্কসংকেত। ছুটির পরিকল্পনা করতে মনে করিয়ে দাও এবং ছুটি শেষে স্বচ্ছন্দে কাজে ফিরতে সাহায্য করো – দেখো ছুটির সুফল ধরে রেখেই কীভাবে কাজে ফেরা যায়।

9. ৯. পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলো

কর্মক্ষেত্রে ভালো সম্পর্ক থাকলে চাপের সময় সামলানো সহজ হয়। দলীয় চ্যালেঞ্জ, একসঙ্গে দুপুরের খাবার এবং একটু বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা কাজের বাইরেও সহকর্মীদের কাছাকাছি আসার সুযোগ দেয়। দেখো অনলাইনে দলীয় বন্ধন গড়ার ১০টি কার্যক্রম।

10. ১০. মতামত নাও ও পরিবর্তন আনো

কাজের চাপ ও ভারসাম্য নিয়ে ছোট একটি সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জরিপ চালাও, অতিরিক্ত কাজ ও অসুস্থতাজনিত ছুটির প্রবণতা দেখো এবং ফল অনুযায়ী ব্যবস্থা নাও। আমাদের সুস্থতার মূল কর্মদক্ষতা সূচকের তালিকা দেখায় কোন বিষয়গুলো নজরে রাখতে হবে।

Pilt
walk together

ভারসাম্যের অভাবের সতর্কসংকেত

ভারসাম্য বজায় রাখতে YuMuuv যেভাবে সাহায্য করে

Pilt
Positive

YuMuuv একটি সুস্থতার চ্যালেঞ্জ অ্যাপ, যা কর্মীদের চাপ ছাড়াই আনন্দের সঙ্গে কাজ থেকে একটু বিরতি নেওয়ার উপলক্ষ দেয়:

  • বাইরে বের হতে উৎসাহ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ – পদক্ষেপ, হাঁটা, সাইকেল চালানো এবং নির্দিষ্ট দূরত্ব পাড়ি দেওয়া।
  • সতেজ হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ – ঘুম, মাইন্ডফুলনেস ও যোগব্যায়াম।
  • দলীয় চ্যালেঞ্জ ও চ্যাট – বিভিন্ন অফিস ও সময় অঞ্চলের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ।
  • স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং – Apple Health, Health Connect ও Garmin থেকে কার্যকলাপের তথ্য সিঙ্ক হয়, তাই আলাদা করে কিছু লিখে রাখতে হয় না।

কোনো থিম খুঁজছ? একটি ডিজিটাল সংযোগ থেকে বিরতি নেওয়ার চ্যালেঞ্জ চেষ্টা করো অথবা YuMuuv চ্যালেঞ্জের সম্পূর্ণ তালিকা দেখে নাও।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

1. নিয়োগকর্তারা কীভাবে কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বাড়াতে পারেন?

নিজে উদাহরণ তৈরি করো, কাজের বাইরের সময় স্পষ্ট করো, বিরতি নিশ্চিত করো, নমনীয়তা দাও, ছুটি নিতে উৎসাহিত করো এবং চলাফেরা, বিশ্রাম ও পারস্পরিক যোগাযোগের নিয়মিত সুযোগ তৈরি করো।

2. কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য কার দায়িত্ব – নিয়োগকর্তার, নাকি কর্মীর?

দুজনেরই। কর্মীরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নেন, তবে কাজের চাপ, প্রত্যাশা ও সংস্কৃতি নির্ধারণ করেন নিয়োগকর্তা। সুস্থতায় নিয়োগকর্তার ভূমিকা সম্পর্কে আরও পড়ো।

3. সুস্থতার চ্যালেঞ্জ কি কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বাড়াতে পারে?

এই চ্যালেঞ্জগুলো পরিকল্পিতভাবে ও সবার সঙ্গে মিলে বিরতি নেওয়া, চলাফেরা করা এবং সতেজ হয়ে ওঠার উপলক্ষ দেয় – বিশেষ করে যখন এর সঙ্গে থাকে কাজের বাইরের নির্দিষ্ট সময় এবং সহায়ক ম্যানেজার।

4. কীভাবে শুরু করব?

একটি ডেমো বুক করো, আর আমরা এমন একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে সাহায্য করব যা অতিরিক্ত ক্লান্তি নয়, ভারসাম্যকে উৎসাহ দেয়।

  • শেয়ার করো