কর্মক্ষেত্রে দুপুরের ঝিমুনি কাটাবে কীভাবে

কর্মক্ষেত্রে দুপুরের ঝিমুনি কাটাবে কীভাবে: বিজ্ঞানসমর্থিত ১০টি পরামর্শ

দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে কখনো চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে, মনোযোগ সরে যায়, আর এক কাপ বাড়তি কফি বা একটা কুকির লোভ জাগে। দুপুরের এই ঝিমুনি সত্যিই হয় – আর গরমের দিনে তা আরও বেশি টের পেতে পারো। ভালো খবর হলো, কয়েকটি সহজ অভ্যাসেই অনেকটা পার্থক্য আনা যায়। কেন এই ঝিমুনি আসে আর কর্মক্ষেত্রে দুপুরের ঝিমুনি কাটাতে বিজ্ঞানসমর্থিত দশটি উপায় কী, তা জেনে নাও।

1. দুপুরে ঝিমুনি আসে কেন

Pilt
slump
  • তোমার দেহঘড়ি। সার্কাডিয়ান ছন্দের অংশ হিসেবে দুপুরের শুরুর দিকে স্বাভাবিকভাবেই সজাগতা কমে আসে। দুপুরের খাবার না খেলেও এই "দুপুর-পরবর্তী ঝিমুনি" হতে পারে।
  • কী খাচ্ছ আর কতটা খাচ্ছ। দুপুরে বেশি পরিমাণে ভারী খাবার খেলে – বিশেষ করে পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার – ঝিমুনি আরও বাড়তে পারে।
  • কম ঘুম। রাতে ভালো ঘুম না হলে দুপুরেই তার প্রভাব টের পাওয়া যায়।
  • একটানা বসে থাকা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নড়াচড়া না করলে সজাগ থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
  • গরম ও পানিশূন্যতা। গরম ঘর আর কম পানি পান ক্লান্তি বাড়ায়, বিশেষ করে গ্রীষ্মে।

2. দুপুরের ঝিমুনি কাটানোর ১০টি উপায়

১. দুপুরে পরিমিত, সুষম খাবার খাও

খাবারে প্রোটিন, শাকসবজি ও গোটা শস্য রাখো, আর অতিরিক্ত পরিমাণে বা বেশি তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলো। আরও পড়ো পুষ্টি ও কর্মক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা নিয়ে।

২. দুপুরের খাবারের পর হাঁটো

খাওয়ার পর ১০–১৫ মিনিট হাঁটা ঝিমুনি কাটানোর অন্যতম সেরা উপায়। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর কয়েক মিনিট হালকা হাঁটলেও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে – আর বাইরের তাজা বাতাস তোমাকে চনমনে করে তোলে।

৩. দিনের আলো গায়ে লাগাও

প্রাকৃতিক আলো দেহঘড়ির ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং সজাগতা বাড়ায়। বিরতির সময় বাইরে যাও, অথবা দুপুরে জানালার পাশে বসে কাজ করো।

৪. পানি পান করো

ডেস্কে একটি পানির বোতল রাখো এবং দুপুরের খাবারের পর আবার ভরে নাও। গরমে তোমার ধারণার চেয়েও বেশি পানি দরকার হয়। দেখো কর্মক্ষেত্রে শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা কেন জরুরি।

Pilt
beat the slump

৫. পারলে একটু ঘুমিয়ে নাও

প্রায় ১০–২০ মিনিটের ছোট্ট ঘুম জেগে ওঠার পর আচ্ছন্ন বোধ না করিয়েই সজাগতা ফিরিয়ে আনতে পারে। বেশি সময় ঘুমালে ঘুম ভাঙার পরও আচ্ছন্নতা থেকে যেতে পারে এবং রাতে ঘুম আসতে সমস্যা হতে পারে।

৬. ক্যাফেইন নেওয়ার সময় ঠিক করো

ক্যাফেইন সাহায্য করতে পারে, তবে এর প্রভাব ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর ছয় ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন নিলেও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে – ফলে পরদিন দুপুরের ঝিমুনি আরও বাড়ে। চনমনে হতে ক্যাফেইন দরকার হলে দুপুরের শুরুর দিকেই নাও।

৭. প্রতি ঘণ্টায় নড়াচড়া করো

উঠে দাঁড়াও, শরীর স্ট্রেচ করো, সিঁড়ি ব্যবহার করো অথবা পরের ফোনকলটি দাঁড়িয়ে সেরে নাও। নড়াচড়ার ছোট ছোট বিরতি রক্তসঞ্চালন সচল রাখে আর মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। হাঁটতে হাঁটতে মিটিং করে দেখো।

৮. কর্মশক্তি অনুযায়ী কাজ সাজাও

কঠিন ও গভীর মনোযোগের কাজগুলো সেই সময়ের জন্য রাখো, যখন তুমি সবচেয়ে চনমনে থাকো – বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে তা সকাল। আর মিটিং, প্রশাসনিক কাজ বা সৃজনশীল ভাবনা নিয়ে আলোচনার জন্য দুপুরের পরের সময়টা রাখো।

৯. কাজের জায়গা ঠান্ডা রাখো

গরম, বদ্ধ ঘরে সবারই ঘুম পায়। জানালা খোলো, ফ্যান চালাও আর গরমের দিনে আবহাওয়ার উপযোগী পোশাক পরো।

১০. ঘুমকে গুরুত্ব দাও

দুপুরের ঝিমুনি কাটানোর সেরা প্রস্তুতি শুরু হয় আগের রাতেই। নিয়মিত সময়ে ঘুমাতে গেলে ও ঘুম থেকে উঠলে ঝিমুনি অনেকটাই কমে। দেখো ভালো বিশ্রামের জন্য ঘুমানোর আগের রুটিন কীভাবে গড়ে তুলবে।

3. নিয়োগকর্তারা যা করতে পারেন

  • দুপুরের খাবারের জন্য সত্যিকারের বিরতি নিতে উৎসাহ দিন এবং ওই সময়ে মিটিং রাখা এড়িয়ে চলুন।
  • দুপুরের পর অল্প হাঁটা ও হাঁটতে হাঁটতে মিটিং করাকে স্বাভাবিক অভ্যাস করে তুলুন।
  • পানি, স্বাস্থ্যকর হালকা খাবার এবং সম্ভব হলে অল্প বিশ্রামের জন্য একটি শান্ত ঘরের ব্যবস্থা করুন।
  • নিয়মিত নড়াচড়ার জন্য পুরস্কার দেয় এমন দলীয় চ্যালেঞ্জ আয়োজন করুন – যেমন প্রতিদিন ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যসহ একটি পদক্ষেপের চ্যালেঞ্জ, অথবা একটি ঘুমের চ্যালেঞ্জ।

আরও ধারণা: কর্মক্ষেত্রে সুস্থ থাকার ১৫টি পরামর্শ এবং অফিসের জন্য ১০টি ফিটনেস চ্যালেঞ্জের ধারণা।

4. সাধারণ জিজ্ঞাসা

দুপুরের খাবারের পর এত ক্লান্ত লাগে কেন?

মূলত দুপুরের শুরুর দিকে দেহঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দে সজাগতা কমে আসে বলে। ভারী খাবার, কম ঘুম, একটানা বসে থাকা বা গরম সেই ক্লান্তি আরও বাড়ায়।

দুপুরের ঝিমুনি কাটানোর দ্রুততম উপায় কী?

বাইরে ১০ মিনিট দ্রুত পায়ে হাঁটা, এক গ্লাস পানি আর কয়েক মিনিট দিনের আলো গায়ে লাগানো।

কর্মক্ষেত্রে একটু ঘুমিয়ে নেওয়া কি ঠিক?

তোমার কর্মক্ষেত্রে অনুমতি থাকলে ১০–২০ মিনিটের ছোট্ট ঘুম সজাগতা বাড়াতে পারে। ঘুম ভাঙার পর আচ্ছন্নতা এড়াতে বেশি সময় ঘুমিয়ো না।

কর্মীদের চনমনে রাখতে কোম্পানিগুলো কী করতে পারে?

বিরতি নিশ্চিত করুন, নড়াচড়ায় উৎসাহ দিন এবং সহজ কিছু চ্যালেঞ্জ আয়োজন করুন। YuMuuv কীভাবে সাহায্য করতে পারে তা দেখতে একটি ডেমো বুক করুন।

  • শেয়ার করো