নতুন বছর, পুরোনো ফাঁদ: লক্ষ্য নির্ধারণের সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো (আর সেগুলো এড়ানোর উপায়)
প্রতি জানুয়ারিতে আমরা একই কাজ করি। নতুন ক্যালেন্ডার খুলে সামনের বছরের দিকে তাকাই, আর ঠিক করি এবার সবকিছু আলাদা হবে। এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে লক্ষ্য ঠিক করি, যেন ফেব্রুয়ারি বলে কোনো মাসের সঙ্গে আমাদের পরিচয়ই নেই। নিজেদের কথা দিই, এবার আরও নিয়মিত হব, আরও শৃঙ্খলা মেনে চলব, সবকিছু আরও গুছিয়ে করব। আর কয়েকটা দিন সত্যিই সেই উদ্যম থাকে।
তারপর বাস্তব জীবন এসে হাজির হয়। কাজের চাপ বাড়ে। বাচ্চারা অসুস্থ হয়। ঘুম কমে যায়। আবহাওয়া খারাপ থাকে। এক দিন ব্যায়াম বাদ পড়তে পড়তে তিন দিন হয়ে যায়। “স্বাস্থ্যকর একটা সপ্তাহ” বদলে যায় “সোমবার থেকে আবার শুরু করব”-তে। আর হঠাৎই জানুয়ারির শুরুতে যে লক্ষ্য নিয়ে এত উৎসাহ ছিল, মাসের মাঝামাঝি এসে সেটাই যেন নীরবে দোষ ধরতে থাকে।
এসবের কোনোটা পরিচিত মনে হলে জেনে রাখো, তুমি একা নও। তার মানে এই নয় যে তুমি অলস বা তোমার ইচ্ছাশক্তির অভাব আছে। সাধারণত এর মানে হলো, বেশিরভাগ মানুষ যে ফাঁদগুলোতে পড়ে, তুমিও তার একটায় পড়েছ—কারণ এগুলো খুবই সাধারণ, আর শুরুতে বেশ যুক্তিসংগতই মনে হয়।
এই লেখায় লক্ষ্য ঠিক করার সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো (বিশেষ করে নতুন বছরের শুরুতে) তুলে ধরা হয়েছে, আর সেগুলো এড়ানোর ব্যবহারিক ও বাস্তবসম্মত উপায় দেওয়া হয়েছে। তোমার লক্ষ্যকে নিখুঁত করতে নয়, বরং টিকিয়ে রাখতে।
কারণ সত্যিটা হলো: “ভালো” লক্ষ্য মানে জানুয়ারিতে শুনতে দারুণ লাগে এমন কিছু নয়। ভালো লক্ষ্য হলো সেটা, যা তুমি মার্চেও করে যেতে পারো।
Table of Contents
1. নতুন বছরের লক্ষ্য কেন ব্যর্থ হয় (আর কেন সমস্যাটা অনুপ্রেরণার নয়)
ফাঁদগুলো নিয়ে কথা বলার আগে বড় ছবিটা একটু দেখে নেওয়া যাক।
বেশিরভাগ মানুষ ভাবে, অনুপ্রেরণা হারিয়ে যায় বলেই লক্ষ্য পূরণ হয় না। অনুপ্রেরণা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ—কিন্তু অনুপ্রেরণা আসলে এক ধরনের মানসিক অবস্থা। চাপ, ঘুম, আবহাওয়া, কাজের সময়সীমা আর শরীরের শক্তির ওপর নির্ভর করে এটা বদলায়। তোমার পরিকল্পনা যদি মনের অবস্থার ওপর নির্ভর করে, তাহলে তা নড়বড়ে হবেই।
যা স্থির থাকে, তার ভিত্তিতে পরিকল্পনা করলে লক্ষ্য পূরণ হয়:
- সহজ কিছু কাজ, যা তুমি বারবার করতে পারো,
- তোমার সময়সূচির সঙ্গে মানানসই রুটিন,
- কোনো দিন বাদ পড়লে আবার ছন্দে ফেরার উপায়,
- আর বাস্তব জীবনের সঙ্গে মেলে এমন প্রত্যাশা।
যারা “লক্ষ্যে অটল থাকে”, তারা সাধারণত সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত মানুষ নয়। তাদের এমন একটা পরিকল্পনা থাকে, যা অনুপ্রেরণা কম থাকলেও কাজে দেয়।
আমাদের চাওয়াও সেটাই। নতুন বছর আসলেই একটা সুযোগ: গবেষকেরা একে বলেন নতুন শুরুর প্রভাব। আসল কৌশল হলো, সেই উদ্যমের সঙ্গে টেকসই একটা পরিকল্পনা জুড়ে দেওয়া।
2. ফাঁদ #১: এত অস্পষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা যে কাজে নামাই যায় না
অবাক করার মতো অনেক নতুন বছরের লক্ষ্যই এমন শোনায়:
- “ফিট হব”
- “ভালো খাবার খাব”
- “আরও সুস্থ থাকব”
- “মানসিক চাপ কমাব”
- “আরও বেশি ঘুমাব”
- “আরও নিয়মিত হব”
ইচ্ছেগুলো খারাপ নয়। কিন্তু এগুলো কাজে নামার মতো স্পষ্ট লক্ষ্যও নয়।
লক্ষ্য অস্পষ্ট হলে, আজ ঠিক কী করলে সেই লক্ষ্যে কাজ করা হবে, তা বোঝা যায় না। কোনটাকে অগ্রগতি বলবে, সেটাও বোঝা যায় না। আর কী করতে হবে না জানলে, হয় কিছুই করা হয় না—নয়তো এক সপ্তাহ খুব বাড়াবাড়ি করে শেষে ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিতে হয়।
এড়ানোর উপায়: অস্পষ্ট লক্ষ্যকে নির্দিষ্ট কাজে বদলাও
স্পষ্ট লক্ষ্য তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেয়:
- ঠিক কী করবে?
- কতবার করবে?
- কখন করবে?
যেমন:
- “ফিট হব”-এর বদলে → “সোম/বুধ/শুক্র দুপুরের খাবারের পর ৩০ মিনিট হাঁটব।”
- “ভালো খাবার খাব”-এর বদলে → “সপ্তাহে ৪ দিন দুপুরের খাবারে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার + সবজি যোগ করব।”
- “আরও বেশি ঘুমাব”-এর বদলে → “কর্মদিবসে রাত ১০:৪৫-এর মধ্যে বিছানায় যাব; ফোন শোবার ঘরের বাইরে রাখব।”
সবচেয়ে ভালো লক্ষ্যগুলো শুনতে প্রায় অতিরিক্ত সহজ মনে হয়। এটা ভালো লক্ষণ। গবেষণাও তা সমর্থন করে: ৯৪টি গবেষণার একটি মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, “X ঘটলে আমি Y করব”—এমন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কাজে অটল থাকার সম্ভাবনা অনেক বাড়ায় (Gollwitzer ও Sheeran, ২০০৬)।
3. ফাঁদ #২: খুব দ্রুত, খুব বড় শুরু (জানুয়ারির দৌড়)
জানুয়ারির লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে প্রায়ই “হারানো সময় পুষিয়ে নেওয়ার” একটা অঘোষিত চাপ থাকে। মানুষ একসঙ্গে সব বদলাতে চায়:
- সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যায়াম,
- খাওয়াদাওয়ায় কড়া নিয়ম,
- চিনি একদম নয়,
- অ্যালকোহল একদম নয়,
- প্রতিদিন ধ্যান,
- ১০,০০০ পা হাঁটা,
- আর ভোর ৫:৩০ থেকে শুরু হওয়া নতুন সকালের রুটিন।
এটা শৃঙ্খলা নয়। জীবনযাপন নিয়ে সাময়িক একটা পরীক্ষা। এক-দুই সপ্তাহ চলতে পারে। পুরো বছর খুব কমই টেকে।
সমস্যাটা বড় কিছু চাওয়ায় নয়। সমস্যাটা হলো এমন গতিতে শুরু করা, যা ধরে রাখতে সবকিছু নিখুঁত হওয়া দরকার।
এড়ানোর উপায়: খারাপ সপ্তাহেও করা যায় এমন লক্ষ্য বেছে নাও
একটা মজবুত লক্ষ্য টিকে থাকা উচিত এসবের মধ্যেও:
- চাপের কোনো প্রকল্প,
- এক সপ্তাহ ঠিকমতো ঘুম না হওয়া,
- ভ্রমণ,
- শীতের আবহাওয়া,
- পারিবারিক দায়িত্ব,
- কিংবা বাড়িতে অসুস্থ বাচ্চা থাকা।
তার মানে, নিজের আদর্শ রূপটি যতটা করতে চায়, তার চেয়ে ছোট করে শুরু করা।
কাজের একটা নিয়ম: যতটা করতে পারবে বলে মনে হয়, তার ৬০% দিয়ে শুরু করো। পরে বাড়াও।
কোনো অভ্যাস নতুন করে শুরু করার চেয়ে তা একটু একটু করে বাড়ানো অনেক সহজ।
4. ফাঁদ #৩: পদ্ধতির বদলে ফলাফল বেছে নেওয়া
অনেক লক্ষ্যই ফলাফলনির্ভর:
- “১০ কেজি ওজন কমাব”
- “৫০ মিনিটের কমে ১০ কিমি দৌড়াব”
- “পেটের পেশি দৃশ্যমান করব”
- “আর মানসিক চাপ অনুভব করব না”
- “আরও সুখী হব”
ফলাফল খারাপ কিছু নয়। শুধু পুরোপুরি তোমার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তুমি তা প্রভাবিত করতে পারো, কিন্তু নিশ্চিত করতে পারো না। তাই শুধু ফলাফলনির্ভর লক্ষ্য মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ—কারণ ঠিক কাজগুলো করলেও নিজেকে ব্যর্থ মনে হতে পারে।
এড়ানোর উপায়: নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রক্রিয়ায় মন দাও
আরও ভালো কাঠামো হলো:
- ফলাফলের লক্ষ্য (ঐচ্ছিক) + পদ্ধতির লক্ষ্য (অপরিহার্য)
যেমন:
ফলাফল: “ওজন কমাব”
পদ্ধতি: “সপ্তাহে ২ বার পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম + প্রতিদিন ৮,০০০ পা হাঁটা + সকালের নাশতায় প্রোটিন।”
ফলাফল: “আরও দ্রুত দৌড়াব”
পদ্ধতি: “সপ্তাহে ৩ বার দৌড়: হালকা দৌড়, বিরতি দিয়ে দ্রুত দৌড়ের সেশন, দীর্ঘ দৌড়।”
ফলাফল: “মানসিক চাপ কমাব”
পদ্ধতি: “প্রতিদিন ১০ মিনিট বাইরে কাটানো + মিটিংয়ের আগে ৫ মিনিট শ্বাসের ব্যায়ামে মন শান্ত করা + রাত ৮টার পর আর ইমেইল নয়।”
পদ্ধতিটা ঠিকমতো ধরে রাখতে পারলে, ফল পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। আর সময় একটু বেশি লাগলেও তুমি অগ্রগতি অনুভব করতে পারো।
5. ফাঁদ #৪: টিকিয়ে রাখা যায় না এমন কড়া নিয়ম করা
অনেকেই লক্ষ্যকে নিয়মের মতো করে ঠিক করে:
- “কখনো ব্যায়াম বাদ দেব না।”
- “শর্করাজাতীয় খাবার নয়।”
- “মিষ্টি নয়।”
- “অ্যালকোহল নয়।”
- “শুধু স্বাস্থ্যকর, অপ্রক্রিয়াজাত খাবার।”
- “প্রতিদিন করতেই হবে, কোনো ব্যতিক্রম নয়।”
কড়া নিয়মে অল্প সময়ে অগ্রগতি হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তার উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একসময় বাস্তব জীবনের কারণে নিয়ম ভাঙে। তখন নিজেকে ব্যর্থ মনে হয়। তারপর শুরু হয় সব নয়তো কিছুই না মনোভাব: “যখন গড়বড় করেই ফেলেছি, পরে আবার শুরু করব।”
এই চক্রটাই আসল সমস্যা।
এড়ানোর উপায়: পরিকল্পনায় নমনীয়তা রাখো
“কখনোই নয়”-এর বদলে বাস্তবতাকে জায়গা দেয় এমন কাঠামো ব্যবহার করো:
- “আমি সপ্তাহে ৩ দিন ব্যায়াম করি, আর অন্তত ২ দিন করার চেষ্টা করি।”
- “আমি ভেবেচিন্তেই সপ্তাহে ২–৩ বার মিষ্টান্ন খাই।”
- “আমি শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অ্যালকোহল পান করি।”
- “এক দিন বাদ পড়লে পরদিন করি। নতুন করে শুরু করার কিছু নেই।”
তুমি মান কমাচ্ছ না। এমন একটা পরিকল্পনা বানাচ্ছ, যা প্রথম কঠিন সপ্তাহেই ভেঙে পড়বে না।
6. ফাঁদ #৫: দিনশেষে ইচ্ছাশক্তির ওপর ভরসা করা
অনেক লক্ষ্যই “কাজের পরে” করার জন্য ঠিক করা হয়।
অথচ তখনই তোমার ইচ্ছাশক্তি সবচেয়ে কম থাকে।
সেই সময় আরও যা হয়:
- মিটিং শেষ হতে দেরি হয়,
- আবহাওয়াটা সবচেয়ে খারাপ মনে হয়,
- শরীর ক্লান্ত থাকে,
- আর মন আরাম চায়।
এই কারণেই মানুষ মন থেকে চাইলেও এত লক্ষ্য পূরণ হয় না।
এড়ানোর উপায়: সময় বদলাও বা শুরুটা সহজ করো
তোমার সামনে দুটো পথ:
- অভ্যাসের সময়টা এগিয়ে আনো (একটু হলেও): সকালে, দুপুরের বিরতিতে, বিকেলের মাঝামাঝি।
- শুরু করার বাধা কমাও: “১০ মিনিট” করলেও হবে, আর ১০ মিনিট পরে চাইলে থামতে পারো।
ভাবনাটা এভাবে বদলে দেখো:
তোমার নিখুঁত ব্যায়াম সেশন দরকার নেই। দরকার এমন একটা শুরু, যা তুমি নিয়মিত করতে পারো।
বেশিরভাগ মানুষের আরও কঠিন পরিশ্রমের দরকার নেই। দরকার আরও নিয়মিত হওয়া।
7. ফাঁদ #৬: বাদ পড়ার পরিকল্পনা না রাখা (তারপর খেই হারানো)
মানুষ প্রায়ই এমনভাবে লক্ষ্য ঠিক করে, যেন একটা দিনও বাদ পড়বে না। কিন্তু বাদ পড়া স্বাভাবিক। মানুষ হলে এমন হয়ই।
একবার বাদ পড়াটা আসল ব্যর্থতা নয়।
আসল ব্যর্থতা হলো তারপরে যা হয়:
- অপরাধবোধ,
- নিজেকে দোষ দেওয়া,
- “সব নষ্ট করে ফেললাম,”
- আর তারপর ছেড়ে দেওয়া।
এড়ানোর উপায়: ছন্দে ফেরার নিয়ম বানাও
ছন্দে ফেরার নিয়ম হলো, কোনো দিন বাদ পড়লে কী করবে, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা।
যেমন:
- “এক দিন ব্যায়াম বাদ পড়লে পরদিন ১০ মিনিট হাঁটব।”
- “দুই দিন বাদ পড়লে সঙ্গে সঙ্গে অভ্যাসটার সবচেয়ে ছোট সংস্করণটা করব।”
- “এক সপ্তাহ ছন্দ হারালে সাত দিন ন্যূনতমটুকু করে আবার শুরু করব।”
লক্ষ্য হলো না এক দিনও বাদ না দেওয়া।
লক্ষ্য হলো খেই হারিয়ে সব ছেড়ে দেওয়া এড়ানো। অভ্যাস নিয়ে গবেষণা এখানে ভরসা দেয়: বাস্তব জীবনে অভ্যাস গড়া নিয়ে এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক দিন বাদ পড়লে মানুষ উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে যায় না (Lally ও অন্যান্য, ২০১০)। আসল কথা হলো আবার শুরু করা।
8. ফাঁদ #৭: একাই সব করার চেষ্টা
লক্ষ্যকে খুব ব্যক্তিগত মনে হয়। মানুষ ভাবে, “নিজেরটাই নিজেকে সামলাতে হবে।” কিন্তু পাশে সমর্থন থাকলে আচরণ বদলানো সহজ হয়।
তার মানে এই নয় যে সবার সামনে চাপ নিতে হবে বা বড় করে ঘোষণা দিতে হবে। শুধু একটু সংযোগ দরকার:
- তোমার পরিকল্পনা জানে এমন একজন বন্ধু,
- একটি দলীয় চ্যালেঞ্জ,
- প্রতি সপ্তাহে একসঙ্গে অগ্রগতির খোঁজ নেওয়া,
- কিংবা এমন কোথাও হিসাব রাখা, যেখানে নিজের অগ্রগতি দেখতে পাও।
এড়ানোর উপায়: হালকা জবাবদিহি যোগ করো
হালকা জবাবদিহি মানে:
- চাপ কম,
- উৎসাহ বেশি,
- আর সব সপ্তাহ নিখুঁত হবে না—এটাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া।
যেমন:
- “সপ্তাহে এক দিন একসঙ্গে হাঁটবে?”
- “চলো, দুজনেই একই অ্যাপে ব্যায়ামের হিসাব রাখি।”
- “করা হয়ে গেলে একে অন্যকে টিক চিহ্ন দিয়ে মেসেজ পাঠাব।”
শৃঙ্খলার অভাবেই মানুষ ব্যর্থ হয় না।
কঠিন সময়ে একা হয়ে পড়ে বলেই ব্যর্থ হয়।
9. ফাঁদ #৮: শুধু বড় অর্জন দিয়ে সাফল্য মাপা
জানুয়ারির খুব চেনা একটা ভুল হলো শুধু “নিখুঁত দিনগুলো” গোনা।
এভাবে সাফল্য মাপলে বেশিরভাগ সময়ই নিজেকে ব্যর্থ মনে হবে—এমনকি সত্যিকারের একটা অভ্যাস গড়ে তুললেও।
এড়ানোর উপায়: অগ্রগতি মানে “করা হয়েছে”, “নিখুঁত” নয়
বরং কৃতিত্ব দাও এসবের জন্য:
- কাজে নেমে পড়া,
- ন্যূনতমটুকু করা,
- তুলনামূলক ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া,
- দ্রুত আবার শুরু করা,
- আর সময়ের সঙ্গে নিয়মিত থাকা।
তার মানে ছোট অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ:
- ১৫ মিনিট হাঁটাও ধরা হবে,
- অল্প সময় পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করাও ধরা হবে,
- একবার প্রোটিন আর সবজি বেছে নেওয়াও ধরা হবে,
- ৩০ মিনিট আগে শুতে যাওয়াও ধরা হবে।
তোমার মস্তিষ্ক সাফল্যে সাড়া দেয়। তাকে সফল হওয়ার আরও সুযোগ দাও। এ নিয়ে আরও পড়ো টানা অভ্যাস ধরে রাখার মনস্তত্ত্ব ও পুরোনো অভ্যাসের সঙ্গে নতুন অভ্যাস জুড়ে দেওয়া লেখায়।
10. মজবুত লক্ষ্যের সবচেয়ে সহজ কাঠামো
প্রায় সব ধরনের কাজে লাগে এমন লক্ষ্য ঠিক করার কাঠামো চাইলে, এটা ব্যবহার করো:
- একটি অগ্রাধিকার বেছে নাও (পাঁচটি নয়)।
- একটি ন্যূনতম অভ্যাস ঠিক করো (সবচেয়ে ছোট যে রূপটিও কাজ হিসেবে ধরা হবে)।
- একটি নিয়মিত অভ্যাস ঠিক করো (তোমার স্বাভাবিক লক্ষ্য)।
- একটি ছন্দে ফেরার নিয়ম ঠিক করো (বাদ পড়লে কী করবে)।
- প্রতি সপ্তাহে একটি সূচকের হিসাব রাখো।
উদাহরণ (শরীরচর্চা):
- অগ্রাধিকার: শরীরচর্চা
- ন্যূনতম: প্রতিদিন ১০ মিনিট অথবা সপ্তাহে ২ বার ব্যায়াম
- নিয়মিত: সপ্তাহে ৩ বার ব্যায়াম + ২ বার হাঁটা
- ছন্দে ফেরার নিয়ম: “এক দিন বাদ পড়লে পরদিন ন্যূনতমটুকু করব”
- হিসাব: সপ্তাহে কত মিনিট শরীরচর্চা হলো
এতে চমক নেই। আছে নির্ভরযোগ্যতা।
আর এই নির্ভরযোগ্যতাই সারা বছর সাফল্য এনে দেয়।
11. সাধারণ জিজ্ঞাসা
নতুন বছরের সংকল্পে সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো কী?
সবচেয়ে বড় ভুলগুলো হলো অস্পষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা, খুব বড় করে শুরু করা, অনুপ্রেরণার ওপর নির্ভর করা, সব নয়তো কিছুই না ধরনের নিয়ম করা, আর কোনো দিন বাদ পড়লে কী হবে তা না ভাবা।
নতুন বছরের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য কীভাবে ঠিক করব?
নির্দিষ্ট কাজভিত্তিক লক্ষ্য ঠিক করো, যার ন্যূনতম পরিমাণটা হবে ছোট। তোমার আদর্শ পরিকল্পনার ৬০% দিয়ে শুরু করো, তারপর ধীরে ধীরে বাড়াও। কোনো দিন বাদ পড়লে ছন্দে ফেরার নিয়ম রাখো।
জানুয়ারির পরও কীভাবে লক্ষ্যে অটল থাকব?
অভ্যাসের শুরুটা সহজ করো, প্রতি সপ্তাহে একটি সূচকের হিসাব রাখো, আর শুধু ভালো সপ্তাহ নয়—খারাপ সপ্তাহের কথা ভেবেও পরিকল্পনা বানাও। বাড়তি পরিশ্রমের চেয়ে নিয়মিত থাকাই বেশি কাজে দেয়।
অবসাদে না ভুগে লক্ষ্য পূরণের সেরা উপায় কী?
বারবার অনুসরণ করতে পারো এমন পদ্ধতিতে মন দাও, কঠোর “কখনোই নয়” নিয়ম এড়াও, আর ছোট অর্জন ও দ্রুত আবার শুরু করার মাধ্যমে অগ্রগতি মাপো।
12. এ বছর বারবার নতুন করে শুরু করা থামাও
এই লেখা থেকে একটা কথাই যদি মনে রাখো, তবে সেটা হোক এই:
লক্ষ্য চমকপ্রদ হতে হবে না। বারবার করা যায় এমন হতে হবে।
যে লক্ষ্য ক্লান্ত দিন আর ব্যস্ত সপ্তাহেও টিকে থাকে, সেটা এমন নিখুঁত পরিকল্পনার চেয়ে বেশি ফল দেবে, যা শুধু জীবন শান্ত থাকলেই কাজ করে।
তাই লক্ষ্য কম রাখো, কাজ স্পষ্ট করো, আর ন্যূনতমটুকু এতটাই ছোট রাখো, যা তুমি সত্যিই ধরে রাখতে পারবে।
নতুন বছরে তোমার নতুন ব্যক্তিত্বের দরকার নেই।
দরকার আরও ভালো একটা পদ্ধতি।
এইচআর ও সুস্থতা নিয়ে কাজ করা টিমগুলোর জন্য: প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচির ক্ষেত্রেও একই নীতিগুলো প্রযোজ্য। দৈনিক লক্ষ্যযুক্ত YuMuuv চ্যালেঞ্জ অসাধারণ বড় মোট অর্জনের বদলে বেশিরভাগ দিন অংশ নেওয়াকে পুরস্কৃত করে, আর দলীয় বা সম্মিলিত লক্ষ্য সেই হালকা জবাবদিহি যোগ করে, যা জানুয়ারির পরেও সবাইকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। দেখো YuMuuv চ্যালেঞ্জের সম্পূর্ণ তালিকা অথবা একটি ডেমো বুক করো।